ঘামযুক্ত হাত ও পায়ের প্রাকৃতিক সমাধান

গ্রীষ্ম যাদের হাত-পা ঘামার সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জিং সময়। ফলে পোহাতে হয় নানা দুর্ভোগ। আবার পা ঘেমে যাওয়ার কারণে এ থেকে সৃষ্টি হতে পারে দুর্গন্ধ। এই রোগ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় যেমন বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে, কর্মক্ষেত্রে এবং পারিবারিক কাজেও সমস্যার সৃষ্টি করে। ত্বকের নিচের ঘর্মগ্রন্থি নির্দিষ্টভাবে কাজ না করলেই হাইপারহাইড্রোসিস লক্ষণ দেখা দেয়।

হাত-পা ঘামার কারণ
সাধারণত গ্রীষ্মকালে, গরম তাপমাত্রায় হাত-পা ঘামা বেড়ে যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে শুধু শীতকালেই এর প্রকোপ দেখা যায়। হাত-পা ঘামার প্রাথমিক কারণ হিসেবে তেমন কিছু কারন পাওয়া যায়নি। অতিরিক্ত স্নায়বিক উত্তেজনার কারণে ঘাম হয়ে থাকে। আরও নানা কারণে হাত-পা ঘেমে থাকে। যেমন থাইরয়েডে সমস্যা, ডায়াবেটিস, জ্বর, শরীরে গ্লুকোজের স্বল্পতা, লো ব্লাড সুগার এবং মহিলাদের মেনোপজও এর একটা অন্যতম কারণ। এমনকি মশলাদার খাবার অতিরিক্ত ঘামের কারণ হতে পারে। অনেক সময় শরীরে ভিটামিনের অভাব থাকলে হাত-পা অতিরিক্ত ঘামতে পারে। আবার মানসিক চাপ, কঠোর অনুশীলন, দুশ্চিন্তা ও জেনেটিক কারণে হাত-পা ঘামে।

তাই জেনে নেওয়া যাক এই অবস্থা থেকে উত্তরণের প্রাকৃতিক উপায়-

বেকিং সোডা:- ত্বকের ক্ষারীয় প্রকৃতির জন্য হাত-পায়ের তালু ঘামা প্রতিরোধের অন্যতম সেরা ঘরোয়া উপাদান হচ্ছে বেকিং সোডা। দুই থেকে তিন টেবিল চামচ বেকিং সোডা গরম পানিতে মিশিয়ে নিন এবং এতে আপনার হাত পা ডুবিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের জন্য রাখুন। পানির নিচে জমে থাকা বেকিং সোডার সাথে হাত ঘষুন এবং আধা ঘণ্টা হয়ে গেলে একটি শুকনা কাপড় দিয়ে হাত মুছে ফেলুন।

গোলাপজল:- হাত-পায়ের তালু ঘামা প্রতিরোধে গোলাপজলের তুলনা হয় না। দোকান থেকে গোলাপজল কিনুন বা পানিতে গোলাপের পাপড়ি সিদ্ধ করে নিজেই তৈরি করুন। তুলার সাহায্যে গোলাপ জল হাত-পায়ের তালুতে ব্যবহার করুন। এটি আপনার ত্বকে শীতল প্রভাব ফেলে।

ঠাণ্ডা পানি:- দিনে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য আপনার ঘামযুক্ত হাত এবং পা ঠান্ডা জলে ডুবিয়ে রাখুন। এটি সমস্যাটিকে অনেকাংশে মুক্তি দেবে

লেবুর রস:- আরেকটি কার্যকরী ঘরোয়া উপাদান হচ্ছে লেবুর রস। হাত ও পায়ে ঘামের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে লেবু তিনটি উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

লেবু ও কমলার খোসা নিয়ে শুকিয়ে নিন। শক্ত এবং ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার পরে এগুলি গুঁড়ো করে নিন। এই পাউডারটি আপনার হাত ও পায়ে লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি বায়ু রুদ্ধ কনটেইনারে রাখুন।

অ্যালকোহলের সঙ্গে লেবুর রস মেশান এবং এটি আপনার হাতে ঘষুন। এটি ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য রেখে দিন এবং তারপরে এটি ধুয়ে ফেলুন।

লবণের সাথে লেবুর রস মেশান এবং এটি আপনার হাতে ঘষুন। শুকিয়ে যাওয়ার পরে ধুয়ে ফেলুন।

টি-ব্যাগ:- লিকার চায়ের অ্যান্টিপার্সপিরান্ট উপাদান হাত-পা ঘামার সমস্যায় কাজে লাগে। সমস্যাটি নিয়ন্ত্রণ করতে ঘামযুক্ত হাত ও পায়ে টি-ব্যাগ নিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দিন। এছাড়া ৩ থেকে ৪ টি টি ব্যাগ গরম পানিতে দিয়ে প্রতিদিন ৩০ মিনিটের জন্য আপনার হাতের তালু বা পা ভিজিয়ে রাখুন।

অ্যাপল সাইডার ভিনিগার:- হাত ও পায়ে আপেল সাইডার ভিনেগার লাগান এবং শুকনো পর্যন্ত রেখে দিন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের ছিদ্রকে আঁটসাঁট করে রাখে এবং ঘাম কমাতে সহায়তা করে।

চন্দনগুঁড়া:- প্রাচীনকালে মানুষ চন্দন কাঠের পেস্ট ব্যবহার করত কপাল ঠাণ্ডা রাখার জন্য। এটি ঘাম হ্রাস করতে বেশ পরিচিত। তাই হাত-পায়ের ঘাম কমাতে এটি বেশ কার্যকর। লেবুর রস বা গোলাপ জলের সঙ্গে চন্দন মিশিয়ে ঘামের উপর লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে নিন।

টমেটো রস:- টমেটোর রস শরীরে শীতল প্রভাব ফেলে, এতে ঘাম কম হয়। এটি প্রতিদিন পান করুন অথবা হাত ও পা টমেটো রসে ভিজিয়ে রাখুন। টমেটোর রসে রয়েছে সোডিয়াম যা ফলস্বরূপ যা হাত পায়ের তালু শুষ্ক রাখতে সহায়তা করে।

আলু:- আলুর টুকরো নিয়ে ঘামযুক্ত হাত ও পায়ে ঘষুন। আপনার ত্বকে কিছুক্ষণ আলুর রস রেখে দিন এবং তারপরে এটি ধুয়ে ফেলুন।

এছাড়া যা মনে রাখতে হবে-
অতিরিক্ত মশলাদার বা মিষ্টিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় এড়িয়ে চলুন।
হাত ও পায়ে পেট্রোলিয়াম জেলিযুক্ত ক্রিম প্রয়োগ করবেন না।
কখনও ধোয়া ছাড়া আপনার মোজা বা গ্লাভস পরবেন না।

Related Articles

Popular Now

Categories

ABOUT US

Dainikchorcha.com is a blog where we post blogs related to Web design and graphics. We offer a wide variety of high quality, unique and updated Responsive WordPress Themes and plugin to suit your needs.

Contact us: [email protected]

FOLLOW US