শবে কদরের আমল ও ফজিলত

পবিত্র শবে কদর মহিমান্বিত একটি রাত। শবে কদরের আরবি নাম লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত। এটি এমন একটি বরকতময় রাত যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ্ তায়ালা তার রাসুল (সা.) এর উম্মতকে মর্যাদা বৃদ্ধি করার সুযোগ দিয়েছেন। এই লাইলাতুল কদরের রাতেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়ে সেরা। লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য অপরিসীম।

লাইলাতুল কদর কবে?
লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ নেই। অনেকেই মনে করেন ২৬ রমজান দিবাগত রাতটিই লাইলাতুল কদর। এ ধারনাটি সঠিক নয়। কারণ এ রাতটি লাইলাতুল কদর হওয়ার ব্যাপারে নির্দিষ্টভাবে কোনো সহিহ বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে রমজানের শেষ দশকের ২১ রমজান থেকে নিয়ে ২৯ রমজন পর্যন্ত যে কোনো বেজোড় রাতই শবে কদর হতে পারে।

বোখারী শরিফের ৭০৯নং হাদিসে নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে, অতঃপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতএব তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতসমূহে তা খোঁজ করবে।

মুসলিম শরিফের ১১৬৯নং হাদিসে রাসূল (সা.) এ ব্যাপারে আরও বলেছেন, রমজানের শেষ দশদিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর।

আবু দাউদ শরিফে উল্লেখ রয়েছে, হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর পেলো কিন্তু ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে কাটাতে পারলো না, তার মতো হতভাগা দুনিয়াতে আর কেউ নেই।

কদরের রাতের ইবাদতের সুযোগ যাতে হাতছাড়া হয়ে না যায় সেজন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামশেষ দশ দিনের পুরো সময়টাতে ইতেকাফরত থাকতেন। (মুসলিম, হাদিস নং : ১১৬৭)

লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব
কদরের ফজিলত বোঝানোর জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ‘কদর’ নামে আলাদা একটি সূরা অবতীর্ণ করেন। কেবল কোরআন নয় বরং হাদিসেও কদরের ফজিলত রয়েছে বলে প্রমাণ রয়েছে।

আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, নিশ্চয় আমি তা (কোরআন) এক মোবারক রজনীতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়। (সুরা আদ দুখান : ১-৪)

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, শবে কদরে হজরত জিবরাইল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট এক দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারী-পুরুষ নামাজরত অথবা জিকিরে মশগুল থাকে, তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন। (তাফসিরে মাজহারি)

মিশকাত শরিফে উল্লেখ রয়েছে, হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, মহানবী (সা.) এরশাদ করেন, ‘যদি তোমরা কবরকে আলোকময় পেতে চাও তাহলে লাইলাতুল কদরে জাগ্রত থেকে ইবাদত কর।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, যদি কেউ ঈমানের সঙ্গে সাওয়াব লাভের খাঁটি নিয়তে লাইলাতুল কদর কিয়ামুল্লাইল বা তাহাজ্জুদে অতিবাহিত করে তবে তার পূর্ববর্তী সকল গোনাহ ক্ষমা করা হবে। (বুখারি, হাদিস নং : ৬৭২)

শবে কদরের আমল

  • নফল নামাজ আদায়।
  • নামাজে কিরাত ও রুকু-সেজদা দীর্ঘ করা।
  • কোরআন শরিফ তিলাওয়াত করা।
  • দরুদ শরিফ বেশি বেশি পড়া।
  • তাওবা-ইস্তিগফার অধিক পরিমাণে করা।
  • দোয়া-কালাম, তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকার ইত্যাদি করা।
  • নিজের জন্য, পিতা-মাতার জন্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও সব মোমিন মুসলমানের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করা।
  • কবর জিয়ারত করা।

Related Articles

Popular Now

Categories

ABOUT US

Dainikchorcha.com is a blog where we post blogs related to Web design and graphics. We offer a wide variety of high quality, unique and updated Responsive WordPress Themes and plugin to suit your needs.

Contact us: [email protected]

FOLLOW US