Wednesday, June 23, 2021

ওষুধ ছাড়াই কোলেস্টেরল কমানোর সহজ উপায়

কোলেস্টেরল এক ধরনের চর্বি। কোলেস্টেরল কয়েক ধরনের হয়ে থাকে ট্রাইগ্লিসারাইড, এলডিএল, এইচডিএল এবং টোটাল কোলেস্টরল। এর মধ্যে এইচডিএল শরীরের জন্য উপকারী। আর বাকি তিনটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এই তিন ধরনের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল জমা হয় রক্তনালিতে। এটি জমা হতে হতে রক্তনালির স্বাভাবিক যে রক্তস্রোত তা বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

কোলেস্টেরল অনেক কারনে হয়ে থাকে, তার মধ্যে প্রথম কারন হল খাদ্যাভ্যাস। কিছু নেশা করলে যেমন ধূমপান, মদ্যপান, জর্দা এসব কারণে হয়। আবার ঘোরাঘুরি না করে বেশি শুয়ে বসে জীবন যাপন করেন তাহলে কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আর এমন কিছু রোগ রয়েছে এটার জন্য দায়ী যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ইত্যাদি। অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ সেবনের ফলে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শুধু কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে নয় যেকোনো রোগকে ডেকে আনে। বয়স বাড়ার সঙ্গে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে থাকে। যাদের বয়স ২০ বছর বা তার বেশি, তাদের রক্তে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর একবার পরীক্ষা করে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা দেখা উচিত।

আসুন জেনে নেওয়া যাক রক্তে কোলেস্টেরল কমানোর উপায়-

রসুন:- বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানে রসুন কার্যকর। রসুনে মধ্যে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন, সালফাল যৌগ , খনিজ ইত্যাদি উপাদান যা ওষুধ হিসাবে কাজ করে। গবেষণা মতে, রক্তনালীর গায়ে কোলেস্টেরেল জমা হওয়া রোধ করে। ফলে এটি রক্তচাপ কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। তাই দৈনিক রসুন খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে আসে।

আরও পড়ুন- কিডনিকে ভালো রাখতে চাইলে কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে

ডার্ক চকলেট:- কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে ডার্ক চকোলেট। গবেষণায় দেখা গেছে, ডার্ক চকোলেটে রয়েছে পলিফেনল, থিওব্রোমিনের মতো উপাদান যা এলডিএল কমিয়ে এইচডিএল এর মাত্রা বাড়িয়ে কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক থাকে। তাই প্রতিদিন দুবার ডার্ক চকোলেট খান।

বাদাম:- হৃদরোগের ঝুঁকি ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে বাদাম খাওয়ার অভ্যাস। চিনাবাদাম, আখরোট ও কাজুবাদাম বেশি উপকারী। এগুলিতে রয়েছে প্রোটিন, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর একক-সম্পৃক্ত ফ্যাট ও ভিটামিন যা LDL কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

সবজি ও ফলমূল:- সবুজ শাক ও সবজি এবং খোসা সহ ফলমূলে রয়েছে অন্ত্রের চর্বি শোষণ কমানোর উপাদান। তাই প্রতিদিন নিয়মিত এ ধরনের খাবার খেলে শরীরের রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।

গ্রীন টি:- জলের পরে সর্বাধিক গ্রহণীয় তরল গ্রিন টি যা পলিফেনলের সমৃদ্ধ উৎস। এই যৌগগুলি মানব দেহের জন্য প্রচুর স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান করে। গ্রিন টি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। গ্রীন টি আমাদের শরীরকে সতেজ ও উৎফুল্ল রাখে এবং সেইসঙ্গে হৃদরোগ ও ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকি কমায়। তাই নিয়মিত গ্রীন টি পান করলে শরীরের ওজন ও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন- হার্ট ভালো রাখতে খান চকলেট

ধনে বীজ:- আমাদের দেহে এলডিএল নামক এক ধরনের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল থাকে যা দেহের শিরা উপশিরার দেওয়ালে জমে হৃৎপিণ্ডে রক্তচলাচলে সমস্যা বাড়ায়। এর কারনে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ধনের মধ্যে রয়েছে ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন এ, বিটা ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি যা শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আনে। দেহের মধ্যে থাকা ভালো কোলেস্টেরল, এইচডিএল এর মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এই ধনে।

টমেটো:- নিয়মিত টমেটো খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটি শরীরকে ডিটক্সাইফাই করে কোলেস্টেরল হ্রাস করে, হজমশক্তি বাড়ায়, দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা থেকেও মুক্তি দেয়।

ওটস:- ওটস উচ্চ কোলেস্টেরলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। ওটসের মধ্যে থাকা বিটাগ্লুক্যান উপাদান যা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত ওটস খেলে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা ৫-৭ শতাংশ কমে যায়।

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

টাটকা আপডেট

সবচেয়ে জনপ্রিয় সংবাদ