শীতে ত্বকের যত্ন নেবেন কীভাবে ?

শীতের শুষ্ক আবহাওয়ার কারনে কমবেশি সবারই ত্বক রুক্ষ হয়ে পড়ে। আবার অনেকেরই ত্বক ফেটে যায় এই সময়। তবে যাদের ত্বক এমনিতেই একটু শুষ্ক ও রুক্ষ প্রকৃতির, তাদের সমস্যা অন্যদের তুলনায় একটু বেশি হয় এই সময়টাতে। অতিরিক্ত ত্বক ফাটা জন্মগত কারনেও হতে পারে আবার কিছু কিছু রোগের কারনেও হতে পারে। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার করলে ত্বক ফাটা আগের থেকে অনেকটাই কমতে থাকে আর যদি কমতে না থাকে তাহলে বুজতে হবে কোনো সমস্যাজনিত কারনে। তাহলে আপনাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এ বিষয়ে। আশার কথা হচ্ছে, সামান্য একটু সচেতন হলেই কিন্ত এই সমস্যার হাত থেকে নিজেকে বাঁচানো সম্ভব৷

তাহলে আসুন আমরা জেনে নিই শীতে কীভাবে ত্বকের যত্ন নেবোঃ-

পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পানঃ- যদি আপনি ভেতরের জগতকে ভালো রাখেন তা বাইরেও আলো ছড়াবে। পরিমান মত করে নিয়মিত পানি পান করলে শরীরের ভেতরটা যেমন ভালো থাকবে তেমনি রূপ-লাবণ্যে ভরা আপনার ত্বক থাকবে আরও সুন্দর ও কোমল। শরীর ভিতর থেকে আর্দ্র না হলে তার ছাপ পড়বে ত্বকের উপর৷ তাই পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করুন। পানি পরিমাণ মত পান না করলে শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই ত্বকের যত্ন নিতে শীতেও ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।

দই:- শুষ্ক ও ফাটা ত্বকের জ্বালা বা শুষ্ক ভাব দূর করতে সাহায্য করে দই। এজন্য পরিমান মতো দই, মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে একটা প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাক শরীরের সর্বাঙ্গে লাগান৷ অন্তত পাঁচ থেকে দশ মিনিট এই প্রলেপটি ব্যবহার করুন৷ তাতে ত্বকের জ্বালাভাব দূর হবে৷ দইয়ে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিডের প্রভাবে ঝলমলিয়ে উঠবে আপনার ত্বক৷

অলিভ অয়েল:- সব ধরনের ত্বকের জন্যই অলিভ অয়েল খুব কার্যকরী। অলিভ অয়েলে রয়েছে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফ্যাটি অ্যাসিড যা ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাই তো নিয়মিত এটি শরীরে লাগালে ত্বক আর্দ্র হওয়ার পাশাপাশি নরম ও এবং কোমল হতে শুরু করে। এজন্য স্নানের আধ ঘণ্টা আগে মুখে ও পুরো শরীরে অলিভ অয়েল মেখে নিন৷ তার পর হালকা গরমজলে স্নান সেরে লাগিয়ে নিন ময়েশ্চারাইজ়ার৷ এরপর ম্যাসাজ করুন এতে আপনার শরীরের সমস্ত মৃত কোষ উঠে যাবে৷ সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করলে দারুন উপকার মিলতে শুরু করবে।

অ্যালোভেরা:- ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার ব্যবহার সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। অ্যালোভেরার ভিতরের জেল বের করে ত্বকে লাগালে জ্বালাভাব, চুলকানি মুহূর্তে কমে যাবে। অ্যালোভেরার অ্যান্টি ইনফ্লামেটরী উপাদান ত্বকের ইনফেকশন দূর করে ও ব্রণ হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। আর্দ্রতা জোগানোর পাশাপাশি এই জেলের প্রলেপ আপনার ত্বকের উপর তৈরি করে সুরক্ষার আবরন, তাতে দূষণ আপনার ত্বকে কোনও ছাপ ফেলতে পারে না৷

নারকেল তেল:- বিজ্ঞাপনের ভাষায় বলতে গেলে সুন্দর ত্বকই সবচেয়ে সেরা মেকআপ। যতরকম পোশাকি জিনিসপত্রই ব্যবহার করুন না কেন, ত্বকের যত্নের ব্যাপারে নারকেল তেল যতটা কাজের তার ধারেকাছে আর কিচ্ছু আসতে পারবে না। নিয়মিত নারকেল তেলের ব্যবহার ত্বকের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নষ্ট করে ত্বকে সংক্রমন প্রতিরোধ করে। ত্বকে কোনোরকম জ্বালাপোড়া ভাব হলে তা কমাতেও নারকেল তেল যথেষ্ট কার্যকর। শুষ্ক ত্বকের পক্ষে তো নারকেল তেলের মতো ভালো ময়েশ্চারাইজ়ার আর নেই।

আমন্ড তেল:- ত্বকের জন্য আমন্ড তেলের কোনো বিকল্প নেই। ত্বক খুব তাড়াতাড়ি এই তেল শোষণ করে নেয়। নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ত্বক দাগহীন, ঝকঝকে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আমন্ড অয়েলে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ই থাকে, যার অ্যান্টি অক্সিডেন্ট অতি বেগুনি রশ্মির ক্ষতিকারক প্রভাব ঠেকাতে সক্ষম। ফলে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে না। আমন্ড তেলের কোলাজেন ত্বকে বলিরেখা পড়তে বাধা দেয় এবং চোখের কোলের কালো দাগ ঠেকাতেও তা দারুণ কার্যকর।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Now

Categories

ABOUT US

Dainikchorcha.com is a blog where we post blogs related to Web design and graphics. We offer a wide variety of high quality, unique and updated Responsive WordPress Themes and plugin to suit your needs.

Contact us: [email protected]

FOLLOW US