Wednesday, June 23, 2021

অমর একুশ: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ

আজ ২১ ফেব্রুয়ারি। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। মায়ের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করতে ৬৯ বছর আগে যারা অকাতরে প্রান বিলিয়ে গেছেন জাতীর শ্রেস্ট সেই সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে মধ্যরাতের নীরবতা ভেঙে জাগ্রত হয় শহীদ মিনার। করোনার জেরে প্রথা ভাঙল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের (International Mother Language Day) অনুষ্ঠানে। প্রত্যেক বছর একুশের রাতে ঢাকার শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত থাকেন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি। তবে এবার সে ছবিতে বদল এসেছে। অতিমারিকালে বিধি নিষেধের কারণে সেখানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, রাষ্ট্রপতি মহম্মদ আবদুল হামিদ। বদলে উপস্থিত ছিলেন তাঁদের সামরিক সচিব। তাঁরাই শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

মাতৃভাষাকে ভালবেসে যে প্রাণ পর্যন্ত দেওয়া যায় তা শিখিয়েছিল ওপার বাংলা। সে সময় দেশের গভর্নর মহম্মদ আলি জিন্না। ঢাকার রেসকোর্সে এক সভায় ঘোষণা করলেন উর্দু হবে রাষ্ট্রভাষা। কিন্তু যে বাঙালির প্রথম শব্দ ‘মা’, যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গিয়ে কিংবা আনন্দে উচ্ছ্বাসে যে বাঙালি মায়ের ভাষায় মনের ভাব ব্যক্ত করে তারা কেন মানবে উর্দুকে মাতৃভাষা। ভিতরে ভিতরে শুরু হল দাবানল।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল পড়ুয়া মাতৃভাষার জন্য এই আন্দোলনকে আরও জোরাল করার ডাক দিল। পাকিস্তানি পুলিশ তাঁদের রুখতে এলে বাধল ‘লড়াই’। পুলিশের তরফে চলল গুলি। ঝাঁঝরা হয়ে গেল একদল টাটকা প্রাণ। এরপর গোটা বাংলাদেশ পথে। দাবি একটাই, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। ঘটনাক্রম গেল বহুদূর। ভাষার আন্দোলন মিশে গেল মুক্তিযুদ্ধে। ‘৭১-এ স্বাধীনতা পেল বাংলাদেশ। পাক সরকারের গুলিতে বাংলা ভাষার অধিকার আন্দোলনের শহিদ দিন।

ভাষার জন্য বাঙালির আত্মবলিদানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এর বহু পরে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে ঘোষণা করে। তবে যতই বিধি নিষেধের গেরো থাকুক না কেন, আবেগের কিন্তু কোনও খামতি ছিল না অমর একুশের এই ঐতিহাসিক রাতে। শহরজুড়ে ধ্বনিত হচ্ছিল রক্তে ঢেউ তোলা সেই কালজয়ী গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি…।’

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

টাটকা আপডেট

সবচেয়ে জনপ্রিয় সংবাদ