আপনার প্রিয় whatsapp কি আদৌ সুরক্ষিত,নাকি ধোঁকার টাঁটি?

সম্প্রতি আপনারা যারা whatsapp ব্যবহার করেন তাদের প্রত্যেকের কাছে whatsapp কর্তৃপক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তি (notification) পাঠিয়েছে। আমরা বেশিরভাগই হয়তো না পড়ে ঠিক সম্মতিও দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ পড়লে জানতে পারতেন এটা কি ভয়ঙ্কর। এটাতে বলা হয়েছে যে,whatsapp এবার থেকে আপনার কিছু কিছু তথ্য নেবে। আর যদি না করেন,তাহলে ৮ই ফেব্রুয়ারির পর থেকে আপনি আর whatsapp ব্যবহার করতে পারবেন না।

এবার আমরা আসি কথাটির সত্যতায়। সত্যি কি whatsapp আমাদের তথ্য নেবে? নিলে কি কি তথ্য নেবে? আর সেই তথ্য নিয়ে সে কি করবে?

এসব প্রশ্নের জবাব খোঁজার আগে আমাদের জানতে হবে whatsapp কাজ করে কিভাবে?

যারা আমার আগের cryptocurrency নিয়ে লেখা পড়েছেন তারা কিছুটা আঁচ করতে পারবেন। তো whatsapp কাজ করে end to end encryption পদ্ধতিতে। এতে কি হয়,বার্তা প্রেরক যে বার্তা পাঠায় সেটি কোডেড হয়ে প্রাপকের কাছে পৌঁছায়। এরপর প্রাপকের কাছে থাকা নির্দিষ্ট কি এর মাধ্যমে সেটি খোলে এবং প্রাপক পড়তে সক্ষম হয়।যেটি ফেসবুক মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রাম মেসেজে হয় না। যদিও তারা দাবি করে যে তারা ব্যবহারকারীর তথ্য পরে না,কিন্তু তবু আমরা যে চ্যাট করি তার কীওয়ার্ড ব্যবহার করে আমাদের পণ্য দেখায়। আমরা তা লক্ষ্যও করি।মনে করুন আপনি আপনার বন্ধুকে মেসেঞ্জার চ্যাটে বললেন,”আমার t-shirt কিনতে হবে। তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে এসে দেখলেন ফেসবুকে আপনাকে t-shirt-এর বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে। এর কারণ হলো ফেসবুক তার এপ্লিকেশনে এমন algarithom ব্যবহার করে যেটি কীওয়ার্ডটিকে চিনতে সক্ষম এবং সেই অনুযায়ী পণ্যও দেখায়।

ফেসবুকের বিজনেস মডেল-ফেসবুক নির্দিষ্ট সময় ধরে আপনার একাউন্টের গতিবিধির উপর নজর রাখে এবং তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর তারা সেই তথ্যের ভান্ডার কোম্পানিগুলোকে বিক্রি করে এবং বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দেখায়। ২০১৪ সালে যখন ফেইসবুক ২২ বিলিয়ন ডলারের পরিবর্তে এটিকে কেন,তখন whatsapp বলেছিল যে,তারা তাদের এই পদ্ধতিটি বহাল রাখবে এবং কারো সাথে ব্যবহারকারীর তথ্য বিনিময় করবে না। কিন্তু সাম্প্রতিক টার্মসে তারা কিছু তথ্য দাবি করছে। এবার আপনি যদি ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন,তাহলে আপনি বলবেন যে,ফেসবুক যে এত দাম দিয়ে whatsapp-কে কিনল, সেই এই মূল্য পোষাবে কি দিয়ে?তাই এই ঘটনার অবতারণা। আসলে এটি হবারই ছিল কিন্তু আমরা নিজেদের দূরদর্শিতার অভাবে দেখতে পাইনি।

কোন তথ্যগুলি সংগ্রহ করা হবে?

Whatsapp-এর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,তারা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত চ্যাট দেখবে না। কিন্তু ব্যবহারকারী যদি কোনো whatsapp-এর বিজনেস একাউন্টের সাথে চ্যাট করে,তাহলে সেটি আর end-to-end encrypted থাকবে না। এবার আপনি যদি কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির সাথে নিজের ব্যাঙ্ক একাউন্ট এবং এড্রেস ডিটেলস বিনিময় করেন তাহলে সেটিও আর গোপন বা সুরক্ষিত থাকবে না। এছাড়া তারা ব্যবহারকারীর ব্যবহৃত ফোনের ১.মডেল নং,২.অপারেটিং সিস্টেম,৩.ব্যাটারী লেভেল,৪.সিগন্যাল স্ট্রেংথ,৫.টাইম জোন,৬.আই.পি. এড্রেস,৭.প্রোফাইল পিকচার,৮.স্ট্যাটাস,৯.একাউন্ট নাম ও ১০.কন্ট‍্যাক্টস ডিটেলস নেবে।

এবার কথা হলো প্রথম পাঁচটিতে কোনো ভয়ের ব্যাপার নেই,কিন্তু শেষ পাঁচটি মহা বিপজ্জনক। যদিও whatsapp বলছে যে,এগুলি তারা personalise বিজ্ঞাপন দেখতে ব্যবহার করবে,কিন্তু যদি কোনো কারণে যে কোম্পানিগুলির সাথে তারা তথ্য বিনিময় করবে,সেই কোম্পানিও যদি তথ্য ফাঁস হয় তাহলে আপনার তথ্যও আর গোপন বা সুরক্ষিত থাকবে না। এতে আরও যে ভয়ের কথা সেটি হল এতদিন whatsapp ব্যবহারকারীর কোনো তথ্য সংরক্ষণ করত না। ফলে কোনো সরকার যদি জনগণের তথ্য দাবি করত, তাহলে দিতে অস্বীকার করতো। কিন্তু এবার যেহেতু whatsapp নিজেই ঘোষণা করছে সে তথ্য সংরক্ষণ করছে,তাই এবার সেই কথা ধোপে টিকবে না। এর ফলে সরকার জনগণের উপর নজরদারি করতে পারবে। এবং এর ফলে বহু ভয়ানক সমস্যার জন্ম হতে পারে।সে নিয়ে একদিন বিস্তারিত লিখব।

সমাধান-সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি whatsapp ব্যবহার বন্ধ করে দেন। অন্যথায় উপায় হল,
১.নিজের কোনো ছবি প্রোফাইলে দেবেন না। ২.স্ট্যাটাসেও নিজের সম্বন্ধে না লেখা,পারলে কিছুই না লেখা। ৩.একাউন্ট নামের জায়গাতেও কিছু না লেখায় ভালো। ৪.কন্টাক্টস ডিটেলসের ক্ষেত্রে মোবাইলের পারমিশন বন্ধ রাখুন বা whatsapp-এর ক্ষেত্রে পারমিশন ডিনাই করে দিন। ৫.আই.পি. এড্রেসের ক্ষেত্রে আপনি VPN ব্যবহার করতে পারেন। VPN ব্যবহার করলে কি হয়,এটি আপনার আই.পি. এড্রেস অনবরত পরিবর্তন করতে থাকে।ফলে whatsapp কখনোই আপনার আই.পি. এড্রেস খুঁজে পাবে না।

উপরেরটি ছিল ‘নেই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো।’এবার আপনি যদি নিজেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে চান,তবে whatsapp না ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো।সেক্ষেত্রে আপনি Signal বা Telegram ব্যবহার করতে পারেন।

Signal- এটি একটি নন-প্রফিট অর্গানাইজেশন দ্বারা তৈরী করা।এর প্রতিষ্ঠাতারা দাবি করেন,তারা কখনোই তাদের প্ল্যাটফর্মে কোনো বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে না বা ব্যবহারকারীদের তথ্য বিনিময় করবে না।

Telegram- টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা হলেন Pavel Durov। এনাকে ‘রাশিয়ার জুকেরবার্গ’-ও বলা হয়। এই মেসেন্জারটি বেলারুশের স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের মোট প্রকাশে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল এবং সরকারের বারবার অনুরোধ এবং শাঁসানি সত্ত্বেও তিনি প্রতিবাদী জনতার বিরুদ্ধে যেতে সম্মতি দেননি। এছাড়া সম্প্রতি হং কং আন্দোলনেও এটি যথেষ্ট বড় ভূমিকা গ্রহণ করেছে জনগণের মতামত প্রকাশ্যে। এখানেও তিনি প্রতিবাদীদের পক্ষে অনড় মনোভাব দেখিয়েছেন। তাই এটি সম্ভবত এই মুহূর্তে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য মেসেজিং অ্যাপ।

যদিও এই বৈশ্বিক দ্রুতগতিতে উন্নতিকারী প্রযুক্তির সম্মুখে সকলেরই ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বিপদে,তবুও একটু সাবধান থাকতে অসুবিধা কি!

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Now

Categories

ABOUT US

Dainikchorcha.com is a blog where we post blogs related to Web design and graphics. We offer a wide variety of high quality, unique and updated Responsive WordPress Themes and plugin to suit your needs.

Contact us: [email protected]

FOLLOW US