ত্বক পরিচর্চায় গোলাপ জল

গোলাপ বহু শতাব্দী ধরে প্রেম এবং নারীত্বের প্রতিনিধিত্ব করে তাই নয়! কয়েক বছর ধরে এটি সৌন্দর্যের একটি প্রধান উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে। ত্বক পরিচর্চায় গোলাপ জল ব্যবহার বহুল প্রচলিত। ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে এবং র‌্যাশ, একজিমা, অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক ইত্যাদি জটিলতা কমাতে সহায়ক গোলাপ জল। গোলাপ জল কেবল একটি সৌন্দর্যের উপাদান নয়! তা ছাড়া আমাদের টেনশন কাটিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তাই দেখে নিন রূপচর্চার কাজে গোলাপজল কী কী ভাবে ব্যবহার করা হয়।

ব্রন সারাতে:- বর্তমান সমাজে যেভাবে পরিবেশ দূষণ দিন দিন বেড়ে চলেছে তার প্রভাব কিন্তু ত্বকের নানা সমস্যা দেখা যাচ্ছে। যার ফলে ব্রন থেকে শুরু করে বলিরেখা, র‍্যাশ, ফুসকুড়ির মত এই সমস্যাগুলি প্রায় লেগেই আছে। তবে এক্ষেত্রে গোলাপ জল খুবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কারন গোলাপ জলের মধ্যে থাকা অ্যাান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান যা সহজেই ব্রন কমাতে এবং ব্রনের দাগ দূর করতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত গোলাপ জলে তুলো বা নরম কাপর ভিজিয়ে ত্বকের উপর আলতো করে মুখে ঘষে নিন।

চোখের নীচে কালো দাগ:- চোখের নীচে দাগ হওয়া একটি প্রচলিত সমস্যা। এটির সঙ্গে কোনো জটিল মেডিকেলের অবস্থা জড়িত নেই। এটি সৌন্দর্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নারী পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে এটি হয়। ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, পুষ্টির অভাব, অ্যালার্জি জনিত কারনে হয়ে থাকে। যা একবার হয়ে গেলে সহজে কমতে চাই না। এর কারনে আমরা চিন্তায় পড়ে যায় এবং দেখতেও খারাপ লাগে। তাই হাতের সামনে রয়েছে গোলাপ জল। গোলাপ জলে রয়েছে প্রাকৃতিক উপাদান। যা চোখের পাশে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে ব্যবহার করা হয়। তাই নিয়মিত গোলাপ জল ব্যবহার করলে চোখের নিচে কালো দাগ দূর হয় এবং চোখের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুন- চুল খুব পাতলা হয়ে গেলে ঘন করার প্রাকৃতিক উপায়

অকাল বার্ধক্য:- গোলাপ জলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান যা আমাদের ত্বকের পুষ্টি জোগাতে এবং ত্বককে সতেজ ও সুন্দর করে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত দুইবার গোলাপ জলে তুলো ভিজিয়ে ত্বকে ভালো করে লাগালে ত্বকে বলিরেখা দূর হয়ে যায় এবং মৃত ত্বক আবার পুনরুজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যার ফলে ত্বকের বয়স কম লাগে।

টোনার:- গোলাপ জল ত্বকে প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে কাজ করে। কারন এটি pH ভারসাম্যকে বজায় রাখে। সেটা সংবেদনশীল ত্বক, তৈলাক্ত ত্বক, শুষ্ক ত্বক যেকোনো ধরনের ত্বকেই গোলাপ জল তার প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করে থাকে। এটি ত্বকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট প্রদান করে থাকে। গোলাপের নির্যাস থেকে পাওয়া উপাদানগুলি ভেতর থেকে নরম এবং উজ্জ্বল করে তোলেন। এছাড়াও মুখ পরিষ্কার করার পর লোম ছিদ্র বন্ধ করার জন্য গোলাপ জলে তুলো ভিজিয়ে মুখ মুছে নিন।

তৈলাক্ত ত্বক:- অনেকেই তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যাই ভুগে থাকেন। তাই অনেক কিছু ব্যবহারের পর কি করবে বুঝে উঠতে পারে না। তৈলাক্ত ত্বক নিয়ন্ত্রন করার জন্য গোলাপ জলে অনেকটাই মুক্তি পাবেন। তাই নিয়মিত গোলাপ জলে তুলো ভিজিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে মুছে নিন। এর ফলে ত্বকের ছিদ্র গুলি প্রয়োজনমত খুলে যায়। এবং বাতাস চলাচল করতে পারে। এবং ত্বকও সর্বদা মসৃন থাকবে ও যৌবন কখনো নষ্ট হবে না।

ঠোঁট ফাটা:- অনেকের ঠোঁট ফাটার সমস্যা আছে। আবার অনেকের ঠোঁট একটুতেই শুষ্ক হয়ে যায়। তারা নিঃসন্দেহে ব্যবহার করতে পারেন গোলাপ জল। নিয়মিত গোলাপ জলে নরম কাপর ভিজিয়ে তা বারে বারে লাগান। এর ফলে ঠোঁটের মরা ত্বক সহজেই দূর হয়ে যায় এবং ঠোঁটকে করে তোলে গোলাপি আভা।

সূর্যরশ্মি:- গ্রীষ্মকালে রোধে প্রখর প্রভাবে ট্যানের সমস্যা সম্মুখীন হতে দেখা যায়। কারো কম কারো বেশি। গোলাপ জল ত্বককে সূর্যের ভয়ানক UN রশ্মি থেকে রক্ষা করে থাকে। এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করার ফলে আমাদের ত্বকে দাগ ছোপ পরতে দেইনা। তাই নিয়মিত গোলাপ জলের মাধ্যমে প্যাক তৈরি করে ত্বকে লাগালে। এতে ত্বককে ঠাণ্ডা রাখে ও রোধে পোড়াভাব দূর করতে সাহায্য করে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Now

Categories

ABOUT US

Dainikchorcha.com is a blog where we post blogs related to Web design and graphics. We offer a wide variety of high quality, unique and updated Responsive WordPress Themes and plugin to suit your needs.

Contact us: [email protected]

FOLLOW US