Wednesday, June 23, 2021

স্ট্যাটাস বারে নেটওয়ার্কের পাশের সাংকেতিক চিহ্নগুলির অর্থ কী!

স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না এরকম মানুষ আজকাল খুব কমই দেখা যাবে। স্মার্টফোন ছাড়া এই যুগে মানুষের জীবন অচল। স্মার্টফোন আজকাল আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হিসাবে দেখা দিয়েছে। বাচ্চা থেকে বয়স্ক প্রায় সকল মানুষই বিভিন্ন প্রয়োজনে নানা কারনে স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তূ এর সকল ফিচার সব মানুষের জন্য জানা সম্ভবপর নয়। আজকে আমরা সেরকমই একটি অজানা দিক নিয়ে আলোচনা করবো। অনেক সময়ই আমাদের মোবাইলের স্ট্যাটাস বারে নেটওয়ার্ক এর চিহ্নের পাশে G, E, H, H+ এই অক্ষর গুলো দেখতে পাই। প্রশ্ন আসতেই পারে এগুলি কেন আসে? এগুলি আসার কারন হল মোবাইলের ইন্টারনেটর স্পীড বোঝানোর জন্য।

তাহলে আজকে আমরা জানবো এগুলির কেন আসে এবং এগুলির আসল অর্থ কি?

G:- G হল সংক্ষিপ্ত রূপ। এর ফুল ফর্ম হল GPRS (General Packet Radio Service) যার বাংলা অর্থ হল সাধারন প্যাকেট রেডিও সেবা। নেটওয়ার্কের পাশে G দেখার কারন হল মোবাইলে সর্বোচ্চ ডাউনলোড স্পীড ৫৩.৬ কিলোবিট প্রতি সেকেন্ড এবং সর্বোচ্চ আপলোড স্পীড ২৬.৮ কিলোবিট প্রতি সেকেন্ড। G মানে হল GPRS এবং সবচেয়ে স্লো ইন্টারনেট কানেকশন, যা ব্যবহার হয় GSM (টুজি) নেটওয়ার্কে ।

E:- E এর সংক্ষিপ্ত রূপ হল EDGE। এর ফুল ফর্ম হল Enhanced Data Rate for GSM Evolution. এটি GPRS বা G এর থেকে বেশী গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগ। E এর সর্বোচ্চ ডাউনলোড স্পীড ২১৭.৬ কিলোবিট প্রতি সেকেন্ড এবং সর্বোচ্চ আপলোড স্পীড ১০৮.৮ কিলোবিট প্রতি সেকেন্ড। এই টেকনোলজি 3G আসার খুব অল্প সময় আগেই রিলিজ করা হয়। এই টেকনোলজি তে আপনি ভারী কোনো ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারবেন না তবে হালকা ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারবেন। এতে আপনি ভিডিও দেখতেও পাবেন না। এটি ২য় জেনারেশন এর টেকনোলোজি তাই এটি 2G নামে পরিচিত।

H:- EDGE এর থেকে বেশী গতিসম্পন্ন পরিষেবা দেওয়া মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগের নাম হল HSPA. যার ফুল ফর্ম হল (High Speed Packet Access). H দেখানোর কারন হল মোবাইলের সর্বোচ্চ ডাউনলোড স্পীড ৭.২ মেগাবিট প্রতি সেকেন্ড এবং সর্বোচ্চ আপলোড স্পীড ৩.৬ মেগাবিট প্রতি সেকেন্ড।

H+:- HSPA এর থেকে আরও উন্নত মানের ইন্টারনেট পরিষেবা হল HSPA+. যার সংক্ষিপ্ত রূপ হল H+. এই ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ ডাউনলোড স্পীড ৮৪.৪ মেগাবিট প্রতি সেকেন্ড এবং সর্বোচ্চ আপলোড স্পীড ১১.৫ মেগাবিট প্রতি সেকেন্ড (HSPA – Release 9 এর জন্য)।

এছাড়াও মোবাইল নেটওয়ার্কের পাশে 3G, 4G/LTE এই চিহ্ন গুলি দেখা যায়। 3G হল 3rd Generation এর আবিষ্কৃত নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের সর্বোচ্চ ডাউনলোড স্পীড হ’ল ৩৮৪ কিলোবিট/সেকেন্ড এবং সর্বোচ্চ আপলোড স্পীড হ’ল ১২৮ কিলোবিট/সেকেন্ড। এই মুহূর্তে সবথেকে বেশি স্পীড পাওয়া যায় 4G (4th Generation) বা LTE (Long Term Evolution) প্রযুক্তিতে। LTE তে সর্বোচ্চ ডাউনলোড স্পীড হ’ল ১০০ মেগাবিট/সেকেন্ড এবং সর্বোচ্চ আপলোড স্পীড হ’ল ৫০ মেগাবিট/সেকেন্ড।

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

টাটকা আপডেট

সবচেয়ে জনপ্রিয় সংবাদ