Wednesday, June 23, 2021

ডিজিটাল মার্কেটিং কি? সম্পূর্ণ গাইডলাইন

সোজা এবং সহজ ভাবে বললে ডিজিটাল মার্কেটিং (digital marketing) হলো এমন এক আধুনিক প্রযুক্তি যেখানে, ইন্টারনেট ও ইন্টারনেটে থাকা বিভিন্ন সাধন গুলি ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্য বা সার্ভিসগুলি মার্কেটিং বা প্রচার অনলাইনে করা হয়।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়
বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ভিজিট করার পরে, সেখানে বিভিন্ন ধরণের বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন।

তাছাড়া, YouTube এ ভিডিও দেখার সময়, ভিডিওর প্রথম দিকে বা যেকোনো সময় আমাদের কিছু পণ্য বা সার্ভিস এর বিজ্ঞাপন দেখানো হয়।

অনলাইনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে, পণ্যের প্রচার বা মার্কেটিং করার এই প্রক্রিয়াটাকেই বলা হয় ডিজিটাল মার্কেটিং।

বর্তমান সময়ে এই ডিজিটাল মার্কেটিং (digital marketing) এর প্রক্রিয়া অনেক জনপ্রিয়। কারন, অনলাইন মার্কেটিং একটি লাভজনক ব্যবসা। এবং এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে মানুষ লাখ লাখ টাকা উপার্জন করছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং অনলাইন বা অফলাইন দুই ক্ষেত্রেই হতে পারে।

অফলাইন ডিজিটাল মার্কেটিং:
আপনি টিভি বা রেডিও তে বিভিন্ন পণ্যের যেসকল বিজ্ঞাপন দেখেন বা শুনেন তা হল অফলাইন ডিজিটাল মার্কেটিং।

অনলাইন ডিজিটাল মার্কেটিং:
আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করে ফেসবুক, ইমেল, ব্লগসহ যে সকল অনলাইন মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখেন তা হল অনলাইন ডিজিটাল মার্কেটিং।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ:

ইন্টারনেট মার্কেটিং এর অনেক গুলো অংশের মধ্যে সবচাইতে বেশি জনপ্রিয় মাধ্যমগুলো হচ্ছে:

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO)
সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (SEM)
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (SMM)
কন্টেন্ট মার্কেটিং (CM)
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (AM)
ইমেইল মার্কেটিং (EM)
ভাইরাল মার্কেটিং (VM)

সার্চ ইঞ্জিন (SEO)
মানুষের যখন কোন তথ্য/পন্য/সেবা দরকার হয় তখন সে ওটা খুঁজে থাকে। আর ডিজিটাল চ্যানেল নির্ভর এই যুগে মানুষ যে কোন কিছু খুঁজতে চাইলে সার্চ ইঞ্জিন ব্যাবহার করে। এটা যেমন গুগল হতে পারে, আবার অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিন হতে পারে।

তাই আমার পণ্য, সেবা অথবা তথ্য যদি সার্চ ইঞ্জিন এর প্রথম দিকে থাকে, তাহলে আমি প্রতিনিয়ত নতুন ক্রেতা পেতে থাকবো। যা আমাকে প্রতিদিন নতুন নতুন পাঠক পেতে সহায়তা করে।

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (SEM)
একজন অনলাইন মার্কেটারের অবশই সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং(এসইএম) সম্পর্কে সুষ্পষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে। এ জন্য কিছু সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং ফ্যাক্টর সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকতে হবে। এতে করে আপনি পাবেন সম্পূর্ণ সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং বেনিফিটস। শুধুমাত্র সার্চ ইঞ্জিনই যেকোন ব্রান্ডের অনলাইনে উপস্থিতি ও উন্নতির সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। কয়েকটি উপাদান লক্ষ রেখে আপনি সহজেই কোন ব্যাক্তি অথবা দলের সমন্বয়ে আপনার ওয়েবসাইটের প্রতিযোগীদের পিছনো ফেলে আপনার সাইটটিকে রাঙ্কিং করতে পারবেন । আমাদের অবশ্যই মনে রাখা উচিৎ যে সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং এর কাজটি বলা অপেক্ষা করা অনেক বেশি সহজ। সকল অনলাইন মার্কেটিং প্রক্রিয়াই সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং এর আওতাভূক্ত।

আরও পড়ুন- অনলাইন থেকে ইনকামের সেরা ১০টি উপায়

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (SMM)
আমরা অনেক ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করি , যেমনঃ Facebook, Twitter, Instagram, Google Plus আরো অনেক রয়েছে। এগুলোকে আমরা সোশ্যাল নেটওয়ার্ক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলে থাকি। আমরা একজন অন্যজনের সাথে বা একজন অনেকগুলো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ রক্ষার্থে এই মাধ্যম গুলো ব্যবহার করে থাকি। এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোকে কাজে লাগিয়ে মার্কেটিং করা বা যে পদ্ধতি অনুসরন করে আমরা প্রচারনা করি তাকেই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলে।

কনটেন্ট মার্কেটিং (AM)
কনটেন্ট হলো কোন একটি বিষয় বা বস্ত কে কেন্দ্র করে ব্লগ ,ছবি বা ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে তার আকর্ষণীয় বর্ণনা করে তা ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশ করা। বিভিন্ন পণ্যের ডিজিটাল বিজ্ঞাপনকেও কনটেন্ট মার্কেটিং বলা যায়। ব্লগিং এর মাধ্যমে পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা, অনলাইনে ছবি বা পোষটারিং অথবা ভিডিও মাধ্যমে পণ্য বা ব্র্যান্ডের প্রচারকে কনটেন্ট মার্কেটিং বলে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (AM)
বড় বড় কোম্পানি গুলো তাদের ব্যবসায়ের বিক্রি বৃদ্ধির জন্য তারা অ্যাফিলিয়েট সিস্টেম চালু করে রাখে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল নিজেদের পণ্য গুলো অন্যের মাধ্যমে বিক্রি করা। অর্থাৎ আপনি ঐ কোম্পানির তৃতীয় ব্যাক্তি হয়ে দ্বিতীয় ব্যাক্তির কাছে তাদের পন্য বিক্রি করা। বিক্রয়টি আপনার মাধ্যমে হওয়াই আপনি নির্দিষ্ট পরিমানের কমিশন আপনাকে দেওয়া হবে। এতে কোম্পানি এবং তৃতীয় ব্যাক্তি দুজনেই লাভবান।

বর্তমানে প্রত্যেকটা কোম্পানিই তাদের ব্যবসায়ে অ্যাফিলিয়েট সিস্টেম রাখে। একটা ব্যবসায়ের ব্র্যান্ড তৈরির ক্ষেত্রে, পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অ্যাফিলিয়েট সিস্টেমটা অনেক বেশি কার্যকর। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অ্যাফিলিয়েট কোম্পানি হচ্ছে এমাজন। এমাজন এর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেও আপনি ভালো কমিশন অর্জন করতে পারবেন।

ইমেইল মার্কেটিং (EM)
ইমেইল মার্কেটিং হচ্ছে এমন একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি যেখানে কোম্পানি তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য ঐ নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে জড়িত বা যারা এই বিষয় গুলো পছন্দ করেন তাদের ইমেইল কালেক্ট করেন, এবং তাদেরকে বিভিন্ন সময়ে ঐ বিষয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরনের প্রমোশনাল/প্রচারমূলক ইমেইল পাঠান।

ভাইরাল মার্কেটিং (VM)
এই মাধ্যমটি অন্যসব মাধ্যম গুলো থেকে আলাদা এবং সবচেয়ে বেশি কার্যকরী। ভাইরাল মার্কেটিং এমন একটা পদ্ধতি যার ফলে মুহুর্তের মধ্যেই আপনার প্রচার করা বস্তুটি সবার কাছে পৌছে যাবে। এই ধরনের প্রচারণা গুলো বাতাসের সাথে সাথে সবার কাছে গিয়ে পৌছায়। এগুলো সাধারনত গ্রাহকের ধারায় হয়ে থাকে। এই মাধ্যমে মার্কেটিং করার জন্য আপনাকে সবার থেকে আলাদা ভাবে করতে হবে। এমন কিছু করতে হবে যাতে সবাই সেটা নিয়ে একজন অন্যজনের সাথে শেয়ার করে। আর এটাই হল ভাইরাল মার্কেটিং।

উপরের বর্ণিত সবগুলো মেথড ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এছাড়া আরো অনেক মেথড রয়েছে যেগুলো তেমন জনপ্রিয় নয়।

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখবেন?

ডিজিটাল মার্কেটিং কিন্তু সুনির্দিষ্ট একক কোন বিষয় না। এটা সুবৃহৎ একটা ইন্ডাস্ট্রি। অতএব আপনি যদি কাজ শিখতে চান, তাহলে আগে নির্ধারন করে নিন এই ইন্ডাস্ট্রির কোন বিষয় নিয়ে কাজ করতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। শিখতে চাইলে শেখার সুযোগের অভাব নেই। তবে দ্রুত এবং সঠিক গাইডলাইন নিয়ে শিখতে চাইলে কোর্স করা বেটার। কেননা এতে কন্টেন্ট গুলো গোছানো থাকে।

আপনি যদি নিজে নিজে শিখতে চান তাহলে, অসংখ্য রিসোর্স আছে অনলাইনে, যেমন ইউটিউব, ইউডেমি, গুগোল গ্যারেজ থেকে একদম ফ্রিতেই শিখতে পারবেন।

তবে মনে রাখতে হবে, শুধু কন্টেন্ট দেখেই শেখা যাবে না, সঠিক ভাবে প্র্যাকটিস করতে হবে। বার বার প্র্যাকটিস করতে হবে।

ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে কিভাবে ক্যারিয়ার ডেভেলপ করা যায়:

একজন ডিজিটাল মার্কেটার আসলে অনেক ভাবেই তার ক্যারিয়ার ডেভেলপ করতে পারে। যেমনঃ

ফ্রীল্যান্সাল ডিজিটাল মার্কেটিং কনসাল্টেন্ট
চাকরি
নিজের এজেন্সি, যেখান থেকে উনি ক্লায়েন্টকে সার্ভিস দেয়া যাবে।
এফিলিয়েট মার্কেটিং
ইকমার্স / ড্রপশিপিং বিজনেস
মেন্টরশীপ

আরও পড়ুন

টাটকা আপডেট

সবচেয়ে জনপ্রিয় সংবাদ