থার্মোকলের তৈরি সাদা রঙের খাবারের প্লেট ক্ষতিকর জেনে বা না জেনে আপনি কী তাতে খাচ্ছেন!

উজ্জ্বল সাদা রঙের আপাত নিরীহ বস্তুটি আর কিছু নয় এটি হল থার্মোকল। এখন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠছে এই বস্তুটি। নানা ক্ষেত্রে এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এমনকী আজকাল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খাদ্য পরিবেশনের জন্যও এগুলো সরবরাহ করা হয়। আর সেখান থেকেই আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে কারণ, এই বস্তু দেখতে যতটা সাদা এর কাজ ততটাই মারাত্মক ক্ষতিকারক। আসুন আমরা জেনে নিই এই বস্তুটি কিভাবে আমাদের ক্ষতি করতে পারে।

থার্মোকল কি:- ১৯৫১ সালে জার্মানির বি.এ.এস.এফ. কোম্পানির গবেষকগন সাফল্যের সঙ্গে পলিস্টাইরিন অনুর রাসায়নিক বন্ধনের পুনর্গঠন করতে সক্ষম হন এবং স্ট্রেচ পলিস্টাইরিন বলে একটি বস্তু তৈরি করতে সক্ষম হন। এই বস্তুটিকেই থার্মোকল বলা হয়। বর্তমানে খুব সহজ পদ্ধতির সাহায্যে থার্মোকল তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।

কেন ক্ষতিকরঃ- থার্মোকলের বাসন ঠিকমতো জীবাণুমুক্ত হয় না। ফলে তা থেকে সংক্রমণ, অ্যালার্জি, পেটের গোলমাল হতে পারে। থার্মোকলের প্লেটে গরম খাবার দিলে প্লেটের একেবারে ওপরের পরত গলে বেরিয়ে আসে রাসায়নিক, ওই রাসায়নিক বেরিয়ে আসার ফলে খাবারের সাথে মিশে গিয়ে পাচনতন্ত্রে ঢুকে যায়। এর ফলে কিডনির রোগ সহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গেরও ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা থাকে। এই ভাবে থার্মোকল দীর্ঘকাল ধরে জমতে থাকলে দেখা দিতে পারে ক্লান্তি, দুর্বলতা ও ঘুমের সমস্যা। ওই রাসায়নিক পেটে যাওয়ার ফলে রক্তে প্লেটলেট কমতে পারে এবং হিমোগ্লোবিনেরও সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে দেখা দিতে পারে ক্যান্সার। মেয়েদের শরীরে যদি থার্মোকল জমা হতে থাকে তাহলে স্বাভাবিক হরমোনের সক্রিয়তা কমতে থাকে। এবং থাইরয়েডের সমস্যা ও পিরিয়ড অনিয়মিত হতে পারে। থার্মোকলের বসার শিটও শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। কারণ এগুলোকে ঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করা যায় না। কারন থার্মোকল মাটির সঙ্গে মেশে না। কোনো জিনিসে পচন ধরায় সেসব জীবাণু তারা থাকে জলাশয় ও নর্দমায়। থার্মোকল সেই সব জীবাণুকেই মেরে ফেলে। ফলে সর্বত্র জমা জল আটকে যায়।
থার্মোকল মাটির সঙ্গে সহজে মেশে না বলে মাটির উর্বরাশক্তি হারিয়ে ফেলে। যা চাষের অনুপযোগী হয়ে ওঠে। থার্মোকলের প্লেট পোড়ারে বেরোয় বিষাক্ত ধোঁয়া, বিকট গন্ধ। পোড়া ছাই নিঃশ্বাসে মেশে যার ফলে হতে পারে ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্ট। ক্ষতি হয় শিশু ও প্রসূতিদেরও। বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক। নষ্ট হয় না। যত্রতত্র পড়ে থেকে মশার আঁতুড়ঘর হয়ে ওঠে। নিকাশিনালার পথ বন্ধ করে সমস্যা তৈরি করে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Now

Categories

ABOUT US

Dainikchorcha.com is a blog where we post blogs related to Web design and graphics. We offer a wide variety of high quality, unique and updated Responsive WordPress Themes and plugin to suit your needs.

Contact us: [email protected]

FOLLOW US